আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতের বাইরে নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের মাটিতেই বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে গ্রুপ পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হলেও সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। টুর্নামেন্টের কিছু ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় গুঞ্জন ওঠে—বাংলাদেশ চাইলে গ্রুপ পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আয়ারল্যান্ডের নাম সামনে আসে। ধারণা করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ গ্রুপ ‘বি’ থেকে গ্রুপ ‘সি’-তে যেতে পারে এবং আয়ারল্যান্ডকে রাখা হতে পারে গ্রুপ ‘বি’-তে।
তবে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের গ্রুপ বা সূচিতে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগের পর ক্রিকবাজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিআই-এর মুখপাত্র জানান, আয়ারল্যান্ড নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তাদের সব গ্রুপপর্বের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপ ইস্যুতে গত শনিবার ঢাকায় বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, গঠনমূলক ও পেশাদার পরিবেশে উভয় পক্ষ খোলামেলা আলোচনা করেছে। আলোচনার এক পর্যায়ে লজিস্টিক ও আয়োজন-সংক্রান্ত পরিবর্তন যতটা সম্ভব কম রেখে বাংলাদেশকে ভিন্ন একটি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় আনা হয়।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, ওমান ও আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ ভারতের কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ইতালি।
গ্রুপ পরিবর্তনের বাইরে বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যুতেও বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিসিবি জানায়, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগ ও মতামতও তুলে ধরা হয়েছে। খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বিসিবি ও আইসিসি। চলমান এই অমীমাংসিত পরিস্থিতির সমাধানে সরাসরি আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। ইভেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন্সের জেনারেল ম্যানেজার গৌরভ সাক্সেনার ভিসা জটিলতার কারণে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন। বিসিবির পক্ষে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।