প্রায় ৩২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুস সালাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ।
অন্য আসামিরা হলেন— এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস; রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না; এবং মেরিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ ও পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি।
শুনানির সময় কারাগারে থাকা দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ। নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম এবং রাশেদুল হকের পক্ষে আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ অব্যাহতির আবেদন করে শুনানি করেন। তবে আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
অভিযোগ গঠনের পর আদালত আসামিদের কাছে দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং পরে বিচারিক আদালতে মামলাটি পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোংয়ের নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয় এবং একই বছরের ৯ অক্টোবর তা ছাড় করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৬ অক্টোবর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।