আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট রাউন্ড শুরু হচ্ছে আজ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনের একমাত্র ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গ্রুপ-২ এর এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
এই গ্রুপের বাকি দুই দল হলো শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড। গ্রুপ-১ এর দলগুলো যথাক্রমে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।
গ্রুপপর্বের ৪টি আলাদা স্লটের প্রতিটি থেকে সেরা দুই দল নিয়ে সুপার এইট পর্ব। এই পর্বে দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে দুটি গ্রুপে যেখানে প্রতিটিতে আছে ৪টি করে দল। প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল উঠবে আসরের সেমিফাইনালে।
পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচকে অনেকেই বলছেন ‘ডার্ক হর্সদের দ্বন্দ্ব’। অতীতে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে পাকিস্তানের, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বরাবরই ধারাবাহিক কিন্তু অধরা ট্রফির গল্পে আটকে থাকা দল।
আগের রাউন্ডে কিছু ওঠানামার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে পাকিস্তান। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে বড় জয় তাদের শিবিরে নতুন উদ্দীপনা এনেছে। শাদাব খানদের বিশ্বাস, কঠিন পথ হলেও শিরোপার স্বপ্ন এখনো জীবন্ত। স্পিন ও পেসের ভারসাম্য, সঙ্গে ব্যাটিংয়ে কয়েকজন ম্যাচ-উইনার। সব মিলিয়ে পাকিস্তান যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।
অপরদিকে, কিউইরাও কম কিছু নয়। গ্রুপ পর্বে তারা দেখিয়েছে, চাপের মধ্যেও কীভাবে পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলতে হয়। রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপসদের ব্যাটিং গভীরতা আর অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ কলম্বোর স্পিন-সহায়ক উইকেটে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ফিরলে কিউইদের স্পিন বিভাগ আরও শক্তিশালী হবে।
হেড-টু-হেড হিসাবও রীতিমতো জমজমাট। টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুবই সামান্য। ফলে সুপার এইটের শুরুতেই এই ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে টুর্নামেন্টের সুর নির্ধারণকারী এক লড়াই।
মূলত, এখান থেকেই শুরু হচ্ছে ট্রফির আসল লড়াই। শক্তি, কৌশল আর মানসিক দৃঢ়তার কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে দলগুলোর সামনে। এই পর্বে প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের বাকি তিন দলের বিপক্ষে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলবে।
উল্লেখ্য, গ্রুপ-১-এর ম্যাচগুলো হবে ভারতের মাটিতে, গ্রুপ-২-এর সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। পাকিস্তানের সেমি ও ফাইনালে ওঠার ওপর নির্ভর করবে ম্যাচগুলোর ভেন্যু। শেষ চার ও ফাইনালে পাকিস্তান খেললে ম্যাচগুলো গড়াবে কলম্বোয়। আর ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা এই রাউন্ডে বিদায় নিলে ম্যাচগুলোর জায়গা দখল করবে যথাক্রমে কলকাতা ও আহমেদাবাদ।