২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় রায় ঘোষণা হবে আজ বুধবার (০৪ মার্চ)। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলার পাঁচজন আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেলে আজ এ রায় ঘোষণা হওয়ার কথা।
ডিএমপি কমিশনার ছাড়াও এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে আমির হোসেন ফুফুর বাসায় ফেরার পথে বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ-বিজিবির গাড়ি দেখে ভয়ে পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে ওঠেন তিনি। ওই সময় পুলিশ তার পেছনে গেলে জীবন বাঁচাতে একপর্যায়ে ওই নির্মাণাধীন ভবনটির ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন আমির। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি, ওই অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেখান থেকে পাশের তিন তলায় পড়ে গেলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হলে ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগী তরুণ আমির হোসেন।
রামপুরায় একই দিন এই ঘটনাস্থলের সামনে আরও দুজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ এই মামলায় আনা হয়। মামলার যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেল মামলায় রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন। গত ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ওইদিন মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।