ইরানের প্রয়াত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেমানির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বুধবার (১৮ মার্চ) এই দুই শীর্ষ নেতার শেষ বিদায়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। । গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে ইসরায়েলি বাহিনীর এক ভয়াবহ বিমান হামলায় তারা নিহত হওয়ার পর তেহরান তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে এবং ইরান ইতিমধ্যে এর পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী চলমান যুদ্ধের মধ্যে গত সোমবার রাতে ইরানের প্রভাবশালী এই দুই নেতার ওপর হামলার পর গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে লারিজানি ও সোলেমানিকে হত্যার বিবৃতি দিলে এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরান তাদের দুই নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করে।
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে চরম মূল্য দিতে হবে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে লারিজানি হত্যার ‘নির্ণায়ক ও অনুশোচনামূলক’ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণার পরপরই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ইসরায়েলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কয়েক গুণ জোরালো করেছে। এই হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিব জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত দুই জন নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
তেহরান খোররামশাহর-৪ এবং খায়বার শেকানের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানছে। লারিজানির দাফনের দিনই ইরানের এই বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণ যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।