নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্সা জেলার বীরগঞ্জে একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী নেপালের একাধিক এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ধানুষা জেলার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে দুষ্কৃতিকারীরা ভাঙচুর চালায়। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ৪ জানুয়ারি বীরগঞ্জে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে, পরে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও একটি পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সোমবার বিকেলে জেলার কিছু অংশে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিক্ষোভ চলতে থাকলে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করে। প্রাথমিকভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কারফিউ দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
এদিকে নেপালে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) পুরো সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সব সীমান্ত যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে ভারত-নেপাল সংযোগকারী মৈত্রী ব্রিজেও। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেখানে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে।