ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের পাশাপাশি কতজন আহত বা আটক হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ওই কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য সন্ত্রাসীরাই দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কারা বিক্ষোভকারী এবং কারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি কিংবা নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষকে দায়ী করেননি।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করেছে। সংস্থার পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গণ-মৃত্যুদণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই আন্দোলনে প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন এবং শত শত মানুষের মৃত্যুর খবরের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেনি। বরং তারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের এই অস্থির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার আহবান জানিয়েছে।
বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও তেহরানের পরিস্থিতির দিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।