ভারতের মহারাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিমান অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা, পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মহারাষ্ট্রের আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের নিজের শহর বারামতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তারা। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে হাতঘড়ি এবং পোশাক দেখে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্যমতে,বিমানটি প্রথমবারের চেষ্টায় বারামতির রানওয়েতে নামতে না পেরে এরপর একবার ঘুরে আবার অবতরণের চেষ্টা করলে ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমানের সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যে জায়গা থেকে বিমানটি সংকেত পাঠানো বন্ধ করেছিল সেটি মূল অবতরণস্থল বারামতি বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। অবতরণের সময়ে রানওয়ের থেকে কিছুটা দূরে বিমানটি ভেঙে মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
এদিকে জনমনে দুর্ঘটনার কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করা যায়নি। ওড়ার ১০ মিনিটের মাথায় বিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঘণ্টায় ১০৩৬ কিলোমিটার বেগে ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু ভেঙে পড়ার আগে বিমানটির উচ্চতা কমে এসেছিল ১০১৬ মিটারে এবং গতিবেগ ছিল ২৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
দেশটির কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত আড়াই বছরে ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের বিমান দুবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থার মালিক ভিকে সিংহ জানিয়েছেন, তার সংস্থার অধীনে এখন সাতটি বিমানে কোথাও কোনো ত্রুটি নেই কোনো বিমানই বাতিল করা হবে না এবং বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতেও কোন প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুম্বাই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের একটি ব্যক্তিগত বিমান ভেঙে পড়েছিল কিন্তু তখনো ত্রুটির কথা মানতে চায়নি ভিএসআর অ্যাভিয়েশন।