ইরানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই শহরে একই দিনে পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস ও ইরাক সীমান্তবর্তী আহভাজ শহরে এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণগুলোর সূত্রপাত হয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাগুলো দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহের জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস শহরের মোআল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত আটতলা একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হন। বিস্ফোরণে ভবনের দুটি তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের একাধিক যানবাহন ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকাত বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিক হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আঞ্চলিক কর্মকর্তা মেহরদাদ হাসানজাদেহ।
অন্যদিকে, একই দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের কিয়ানশাহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে আরেকটি বিস্ফোরণে চারজন নিহত হন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় দৈনিক তেহরান টাইমস। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্দর আব্বাস ইরানের নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। ফলে এই অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় নৌবহর পাঠাচ্ছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মিত্রদের সঙ্গেও ভাগ করা সম্ভব নয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনো সংঘাতই অঞ্চল বা দুই দেশের স্বার্থে নয়। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি জানান, ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি এবং ভবিষ্যতেও চায় না।
এদিকে, তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি। বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে আসবে না।