পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে টানা ৪০ ঘণ্টার নিরাপত্তা অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৯ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা বেসামরিক পোশাকে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মিশে হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
হামলার দায় স্বীকার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ৩০ জানুয়ারি একটি বিবৃতি দেয়। এতে সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় পাকিস্তানের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
বিএলএ দাবি করেছে, তাদের অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্য নিহত এবং ১৮ জন আটক হয়েছেন। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিএলএর বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশের দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটিতে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন চলছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সর্বশেষ এই অভিযানকে সেই কঠোর নীতিরই নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।