মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে না। ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার পর কাতারভিত্তিক আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এ মন্তব্য করেন।
আরাঘচি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার পরবর্তী দফার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি তবে ইরান এবং ওয়াশিংটনও মনে করে আলোচনা দ্রুত হওয়া উচিত। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আলোচনা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নৌ ও সামরিক শক্তি জড়ো করার পর ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে দাবি করেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য অস্বীকার করে আসছে।
এ প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য হুমকি ও চাপ থেকে সরে আসা জরুরি। তবে যেকোনো সংলাপের জন্য হুমকি ও চাপ পরিহার করতে হবে। আমরা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই আলোচনা করি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব না।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালে তেহরান দাবি করে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সেই হামলার জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পরিস্থিতি একই রকম হতে পারে বলে ইঙ্গিত করে আরাঘচি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালাতে না পারলেও এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করব। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা করব না; বরং সেসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানব। এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।