রয়টার্সের মতে ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেৃতত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনটি জাতীয় নির্বাচনে হয় বিরোধী দল বয়কট করেছে কিংবা অংশ নিলেও তা ছিলো খুব সীমিত মাত্রায়। টানা প্রায় ১৫ বছর আওয়ামী লীগ নেৃতত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকার পর শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানে গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পতন ঘটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের মাধ্যমে ২৪ সালের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থকদের মতে ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
আসন্ন এ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হবে বলে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তবে সেই জয়ের পথে একটি শক্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে জামায়াতে ইসলাম। অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের পতনের পর উদ্ভুত তারুণ্যভিত্তিক রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (ন্যাশনাল এনসিপি পার্টি) তাদের হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনকে নির্বাচনী ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দেয়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন,তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার নেৃতত্বাধীন সরকারের পতনের পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন খুবই জরুরি ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে অস্থিতিশীলতা চলছে, তা থেকে উদ্ধারের জন্য। শুধু তাই নয় এ নির্বাচন অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেবে এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে সামনের দিনগুলোতে।