বসন্তের আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুণ হৃদয়ে দোলা লাগা দেখে কবি বলে উঠেছেন ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন সব কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্ত উপস্থিত হয় তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের কাছে।
ফাল্গুনের আনন্দের পাশাপাশি এ দিনটি কিছুটা অন্যরকমও বটে। চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে মানবসেবাই যে পরম ভালোবাসার প্রতীক তা দেখিয়ে গিয়েছেন সেই মানবসেবা ও ভালোবাসাকে ঘিরেই প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ উদযাপন করা হয়।
২০২০ সাল থেকে ১৯৭১ সালের কিছু ঐতিহাসিক দিনের সাথে মিল রেখে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জির সংশোধনের কারণে পহেলা ফাল্গুন ও ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ মিলেছে এক সুতোয়। ফলে ইংরেজি মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে দুটি উৎসব পালন করছে দেশের তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষ। শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যায় শীতের জরা-জীর্ণতা।
খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি আহত সেনাদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তিনি তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লিখে নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’।
বাবার মৃত্যুর পর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের কন্যা ও তার প্রেমিক তার বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করলে সেবার অপরাধে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভালোবাসার প্রতীকি অর্থে এই ভালোবাসা প্রত্যেকের জন্য প্রত্যেকের।
এই দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে শুভেচ্ছা বিনিময়। বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, গান, ভালোবাসার চিঠিপাঠ এবং ভালোবাসার দাবিনামা উপস্থাপনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে হয় নানা আয়োজন।
ভালোবাসা আজ বসন্তময় ভালোবাসা অদ্ভুত একটা শব্দ। অনেক শক্তিশালী। বুদ্ধিমানরা ভালোবাসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই অস্ত্র ব্যবহারে রক্তপাত হয় না। ভালোবাসা বটবৃক্ষ এতটাই বৃহৎ যে তার ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণকারীরা থাকে স্নিগ্ধতার পরশে।