যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে একের পর এক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে চলেছেন তা তার এক্তিয়ার বহির্ভূত। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে এবার বড় আঘাত এলো দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের তরফ থেকে। ক্ষমতায় আরোহনের পর থেকে এতদিন কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন ট্রাম্প যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কার্যত আটকে গেলো।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠকে থাকাকালীন সুপ্রিম কোর্ট এই রায় ঘোষণা করলে স্বাভাবিকভাবে এই রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অপমানজনক। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার আমার আছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেন। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা এত বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেছেন এমন নজির নেই।
পাল্টা শুল্ক আরোপ দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করলে এরই মধ্যে ২ এপ্রিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছিলেন, শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। ইন্টারন্যাশনাল ইমরার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট বা আইইইপিএ আইন ব্যাবহার করে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে চলেছেন।
আইইইপিএ আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ কিংবা প্রত্যাহার করতে পারবেন, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে ১৯৭৭ সালে প্রণীত শুল্ক বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা আরোপের এক্তিয়ার কংগ্রেসের (মার্কিন পার্লামেন্ট) কংগ্রেসের নির্দেশনা মানতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, “ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।”
গত বছর ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল আপিল আদালতে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে সেই পিটিশনের রায়ে ফেডারেল আপিল আদালত বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার বিধিবহির্ভূত ব্যবহার করছেন। শুক্রবার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টে মোট ৯ জন বিচারপতিদের মধ্যে ৬ জনই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দেয়ায় সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখলেন।