রাজধানীতে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জলপথ ও স্থলপথ—দুই দিক থেকেই একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত চলমান মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা কার্যক্রম ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিউলেক্স মশার উপদ্রব ভয়াবহভাবে বেড়েছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র সাত দিন। শপথ নেওয়ার পর থেকেই আমরা ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছি। প্রতিরোধে জোর দিচ্ছি এবং সক্ষমতার পুরোটা দিয়ে কাজ করছি,বলেন তিনি।
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে ছিটানো ওষুধের মান যাচাইয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার পর পুরোদমে স্প্রে কার্যক্রম শুরু হবে। “স্প্রে এমনভাবে করতে হবে যাতে ওষুধ সরাসরি মশার গায়ে পৌঁছায়। না হলে মশা মারা যায় না,” যোগ করেন মন্ত্রী।
সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় খাল, ড্রেন ও জলাশয়ে স্প্রে কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি। এজন্য খালগুলোতে স্প্রেবোট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থলপথে ফগার মেশিন ও অন্যান্য উপায়ে লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনের কাজ চলবে।
মন্ত্রী বলেন, জলপথ ও স্থলপথ দুই দিক থেকেই অভিযান চালানো হবে, যাতে মশার পরিমাণ আর বাড়তে না পারে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার যতই চেষ্টা করুক, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব নয়। টবের পানি, পরিত্যক্ত টায়ার ও জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র—এসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসাবাড়ির ভেতরে নিয়মিত স্প্রে করা কঠিন হওয়ায় নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় ডিএসসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।