বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদসহ চারজনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাদের আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরমান আলী তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলে আদালত আগামী ১ মার্চ জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির ঘটনায় রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
মামলার বাদী, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন, রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্ব শত্রুতা ছিল।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলায় ৪১২ নম্বর রুমে সাক্ষাৎকালে আসামিরা নির্জনকে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে এবং কনভোকেশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ডাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শের সময়, আসামি রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। পরে রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তার মুখমণ্ডলে আঘাত করে, যার ফলে নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়।
ভুক্তভোগী এবং তার বন্ধুদের ওপর এলোপাথারি মারধর চালানো হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের ভয়ে আটকাতে চেষ্টা করা হয়। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিদের গ্রেফতার করে।