| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন দিয়ে পরিচালিত হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম: 15-03-2026 ইং
  • 58049 বার পঠিত
রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন দিয়ে পরিচালিত হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্র কোনো আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় না, বরং সংবিধান, আইন ও বিধি-বিধানের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে আবেগ নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কার্যকরের বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদীয় রীতিনীতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব বা সংক্ষিপ্ত আলোচনা আনতে হলে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বা ৬৮ ধারা অনুযায়ী নোটিশ দিতে হয়। বিরোধীদলীয় নেতা এমন কোনো নোটিশ দিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতার পঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা যায় না। অথচ গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা আদেশটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন—যা একটি অদ্ভুত বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়া এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি অসাংবিধানিক।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটে জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে আদেশের মাঝখানে জবরদস্তিমূলকভাবে এমন কিছু প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে, যা জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল না। চারটি ভিন্ন প্রশ্নের জন্য একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যৌক্তিক ছিল না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই রায় কার্যকর করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সংস্কার পরিষদের শপথসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

চলতি সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা সম্ভব হবে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলোর নিষ্পত্তি করতে হবে। সামনে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এই অধিবেশনে সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত হলে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হতে পারে।

সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং এর প্রতিটি শব্দকে সরকার সম্মান করে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে বিল গ্রহণ করে সাংবিধানিক পথেই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪