সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি অর্থনৈতিক আইন ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৭ (আইইপিএ, ১৯৭৭) কে ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ তা সংগ্রহ করা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এজেন্সির কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বন্ধ হবে এই শুল্ক সংগ্রহ। সুপ্রিম কোর্ট গত ২১ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেন আর সেই আদেশ কার্যকর হচ্ছে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে।
কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,ইতোমধ্যে কার্গো সিস্টেমস মেসেজিং সার্ভিস (CSMS) এর মাধ্যমে জাহাজ চালকদের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আইইইপিএ, ১৯৭৭ সম্পর্কিত আদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত শুল্ক কোড নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেন তিনি। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা এত বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেছেন এমন নজির নেই। দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার সময় ২ এপ্রিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করে এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক আদেশে ট্রাম্পের এই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে চলেছেন তা তার এক্তিয়ার বহির্ভূত এবং তিনি আইইইপিএ ১৯৭৭ আইনের অপব্যবহার করছেন। “ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।”