১ হাজার ৭৫০ জনেরও বেশি আফ্রিকান সেনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা। গতকাল বুধবার রাজধানী কিয়েভে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করে তিনি বলেন,“ বিভিন্ন প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের মাধ্যমে এই যুদ্ধে আফ্রিকার নাগরিকদের টেনে আনছে রাশিয়া।”
আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশ থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দরিদ্র আফ্রিকান যুবকদের রাশিয়া এনে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার মতো বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে।
ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া এ সংবাদ সম্মেলনে সাইবিহার দাবিকে সমর্থন করে জানান,যেসব আফ্রিকান সেনা রুশ বাহিনীতে লড়াই করছেন তাদের কোনো অতীত অভিজ্ঞতা নেই সৈনিক কিংবা যোদ্ধা হিসেবে। সাধারণ চাকরির প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডার্ক ওয়েবে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন আফ্রিকার তরুণ-যুবকদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ঘানা এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জোট আফ্রিকান ইউনিয়ন কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়ন চলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই অভিযান এখনও চলছে।