কিউবার জলসীমায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশকারী একটি মার্কিন স্পিডবোড-কে লক্ষ্য করে কিউবার কোস্টাগার্ড গুলি চালালে এতে চারজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। কিউবার কোস্টগার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী স্পিডবোটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত। নিহত এবং আহতদের নাম-পরিচয় এবং কোন দেশের নাগরিক কোস্টাগার্ড বাহিনীর বিবৃতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং কেন স্পিডবোটটি কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করল তা-ও জানা যায়নি।
কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানাযায়, নিজেদের জলসীমায় স্পিডবোটটিকে কোস্টগার্ড বাহিনী থামার নির্দেশ দিলে নির্দেশের জবাবে নৌকার আরোহীরা কোস্টগার্ড বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে জবাবে কোস্টগার্ড বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এই সংঘাতের জেরেই স্পিডবোটের আরোহীদের মধ্যে চার জন নিহত এবং কিউবার কোস্টগার্ডের একজন কমান্ডারসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত এবং আহতদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে ১৯৫৮ সালে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞার মাত্রা আরও বেড়েছে এবং বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিউবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেৃতৃত্বাধীন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সমুদ্র-সীমান্ত থাকায় সমুদ্রপথে কিউবার উপকূল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উপকূলের দূরত্ব মাত্র ১৬০ কিলোমিটার। কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট, লোডশেডিংয়ের মত সমস্যা দিন দিন বাড়ছে কিউবায়। গত কয়েক দশকে বৈধ-অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো কিউবার হাজার হাজার নাগরিক তদের কিউবায় থাকা স্বজনদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ স্পিডবোটটি একটি অসামরিক নৌযান ছিল এবং সেখানে যারা ছিলেন তার সবাই কিউবার নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন। কিউবা থেকে নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের বের করে আনতেই সেখানে যাচ্ছিলেন তারা।”