| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা, ব্যয় হতে পারে ৮১ কোটি টাকা

  • আপডেট টাইম: 15-03-2026 ইং
  • 58041 বার পঠিত
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা, ব্যয় হতে পারে ৮১ কোটি টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া ভাষণের ওপর প্রায় ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একাদশ সংসদের ব্যয়ের পরিসংখ্যান ধরে হিসাব করলে এই দীর্ঘ আলোচনায় রাষ্ট্রের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ব্যয়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভবনের বিল-ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশন (জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৩) পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি মিনিটে গড়ে ব্যয় হয় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ব্যয়ের পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশিত হয়নি।

সে হিসাবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনায় মোট ব্যয় প্রায় ৮১ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদীয় কার্যক্রম অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যদি গড়ে ১২ মিনিট বক্তব্য রাখেন, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ প্রায় ১২০০ শব্দ উচ্চারণ করতে পারবেন।

এদিকে যে ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার ওপর এত দীর্ঘ আলোচনা ও বিপুল ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি অতীতে ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিলেন। এ কারণেই উদ্বোধনী অধিবেশনে তার ভাষণের সময় তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মতে, রেওয়াজের দোহাই দিয়ে “ফ্যাসিস্টকে নরমালাইজ” করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। আলোচনায় অংশ নিলেও আমরা ফ্যাসিবাদের সব অপকর্ম তুলে ধরব।”

আইনি প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতি বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নিয়ে সরকারের নীতি, কর্মপরিকল্পনা এবং বিভিন্ন খাতের সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন। রাষ্ট্রপতি বক্তব্য শুরু করলে তারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দিতে দিতে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শেষ করেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪